ভারতে BRCA1 ও BRCA2-এর জন্য জেনেটিক টেস্টিং: সনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও পরিচর্যার একটি নির্দেশিকা

ভূমিকা

ভারতে বর্তমানে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে ক্যান্সারটি, তা হলো স্তন ক্যান্সার। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে যেখানে প্রায় ২.১৩ লাখ নারী এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২.৪ লাখে পৌঁছেছে। অনেক পরিবারের জন্য এই রোগের নির্ণয় হঠাৎ বজ্রপাতের মতো মনে হয়।

কিন্তু যদি আপনি আগে থেকেই নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারেন?

যদি আপনি আপনার মা, বোন বা খালাকে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করতে দেখে থাকেন, তবে হয়তো আপনার মনেও প্রশ্ন এসেছে—
“আমারও কি হবে?”

এই ভয় স্বাভাবিক। তবে ভয় মানেই অসহায়তা নয়। বেশিরভাগ স্তন ক্যান্সার বংশগত নয়, কিন্তু একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তনের (মিউটেশন) কারণে হয়—বিশেষ করে BRCA1 এবং BRCA2 জিনে পরিবর্তনের ফলে।

এই গাইডে আমরা সহজ ভাষায় আলোচনা করব—

  • স্তন ক্যান্সার কী
  • জিনগত ভূমিকা কী
  • এবং কীভাবে একটি সাধারণ জেনেটিক টেস্ট আপনাকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে

স্তন ক্যান্সার কী? সহজ ভাষায় বোঝা

আমাদের শরীর কোটি কোটি কোষ দিয়ে তৈরি। এই কোষগুলো নিয়ম মেনে বৃদ্ধি পায় ও বিভাজিত হয়। কিন্তু কখনও কখনও কোষের DNA-তে পরিবর্তন ঘটে এবং কোষ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

এই অস্বাভাবিক কোষগুলো একত্রিত হয়ে একটি গাঁট বা টিউমার তৈরি করতে পারে—যা স্তন ক্যান্সার হতে পারে।

স্তন ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ

  • স্তনে বা বগলে শক্ত গাঁট
  • ত্বকে গর্তের মতো দাগ (কমলালেবুর খোসার মতো)
  • লালচে ভাব বা ফোলা
  • স্তনবৃন্ত ভেতরে ঢুকে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক নিঃসরণ (বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত)
  • দীর্ঘস্থায়ী, অজানা ব্যথা

মনে রাখবেন, সব গাঁট ক্যান্সার নয়। তবে যেকোনো পরিবর্তন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


জেনেটিক কারণ: BRCA1 ও BRCA2 কী?

সব ক্যান্সার এক রকম নয়। সাধারণত দুই ধরনের স্তন ক্যান্সার দেখা যায়—

১. স্পোরাডিক (Sporadic) ক্যান্সার

বয়স, পরিবেশ বা জীবনযাত্রার কারণে হঠাৎ ঘটে। পরিবারে তেমন ইতিহাস থাকে না।

২. বংশগত (Hereditary) ক্যান্সার

জিনগত পরিবর্তনের কারণে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়।

BRCA1 ও BRCA2 হলো “টিউমার সাপ্রেসর জিন”—এরা শরীরের DNA ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এদের কাজ হলো ক্ষতিগ্রস্ত DNA মেরামত করা।

কিন্তু যদি এই জিনগুলিতে মিউটেশন থাকে, তবে কোষের ক্ষতি ঠিকমতো মেরামত হয় না, ফলে স্তন ও ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।


কারা ঝুঁকিতে আছেন?

যে কেউ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি—

  • ৫০ বছরের আগে পরিবারে কারও ক্যান্সার ধরা পড়া
  • একই পরিবারের একাধিক সদস্যের স্তন, ডিম্বাশয় বা প্রোস্টেট ক্যান্সার
  • পুরুষ সদস্যের স্তন ক্যান্সার
  • দুই স্তনেই ক্যান্সারের ইতিহাস
  • নির্দিষ্ট জাতিগত পটভূমি (যেমন আশকেনাজি ইহুদি সম্প্রদায়)

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকুন। হরমোনজনিত কারণে মাঝে মাঝে ব্যথা বা পরিবর্তন হতে পারে। তবে যদি—

  • শক্ত গাঁট অনুভব করেন
  • ত্বকের রঙ বা গঠন বদলে যায়
  • স্তনবৃন্তে অস্বাভাবিক পরিবর্তন
  • দীর্ঘদিনের ব্যথা

তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


পরীক্ষা কীভাবে হয়?

যদি লক্ষণ দেখা যায়, ডাক্তার প্রথমে করবেন—

স্ক্রিনিং

  • ম্যামোগ্রাম
  • আল্ট্রাসাউন্ড

বায়োপসি

সন্দেহজনক টিস্যু পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয় ক্যান্সার আছে কি না।

কিন্তু যদি পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তাহলে জেনেটিক টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


BRCA জেনেটিক টেস্ট কী?

এই পরীক্ষা বর্তমানে ক্যান্সার আছে কি না তা নির্ণয় করে না। বরং ভবিষ্যতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি কি না তা জানায়।

পরীক্ষাটি খুবই সহজ—

  • অল্প রক্তের নমুনা
    অথবা
  • লালা (চিক সোয়াব)

রিপোর্ট সাধারণত ১০–১৪ কার্যদিবসের মধ্যে পাওয়া যায়।


রিপোর্টের ফলাফল কী বোঝায়?

পজিটিভ

ক্ষতিকর মিউটেশন পাওয়া গেছে। এর মানে এই নয় যে আপনার ক্যান্সার হয়েছে, তবে ঝুঁকি বেশি।

সম্ভাব্য পদক্ষেপ:

  • আগেভাগে নিয়মিত স্ক্রিনিং
  • ওষুধের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো
  • প্রতিরোধমূলক সার্জারি (ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত)

নেগেটিভ

কোনো ক্ষতিকর মিউটেশন পাওয়া যায়নি।

VUS (Variant of Uncertain Significance)

একটি পরিবর্তন পাওয়া গেছে, কিন্তু তার প্রভাব এখনো নিশ্চিত নয়।


চিকিৎসায় জেনেটিক তথ্যের গুরুত্ব

যদি কারও ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং BRCA মিউটেশন থাকে, তবে নির্দিষ্ট টার্গেটেড থেরাপি (যেমন PARP ইনহিবিটর) কার্যকর হতে পারে।


প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. কোন বয়সে জেনেটিক টেস্ট করা উচিত?
১৮ বছরের পর, বিশেষ করে যদি পরিবারে অল্প বয়সে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে।

২. টেস্ট কি ব্যথাদায়ক?
না, এটি সহজ ও প্রায় ব্যথাহীন।

৩. স্তনে গাঁট থাকলে আগে কী করব?
প্রথমে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ও প্রয়োজন হলে বায়োপসি করুন। জেনেটিক টেস্ট পরে বিবেচনা করুন।

৪. রিপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
সাধারণত ১০–১৪ কার্যদিবস।

৫. বীমা কি খরচ বহন করে?
পলিসির উপর নির্ভর করে। কিছু ক্ষেত্রে কভারেজ পাওয়া যায়।


উপসংহার: সচেতন হোন, আগাম প্রস্তুত থাকুন

নিজের জেনেটিক তথ্য জানা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ।

আপনি যদি পারিবারিক ইতিহাসের কারণে চিন্তিত হন বা শুধু সচেতন থাকতে চান, তবে জেনেটিক টেস্ট আপনাকে পরিষ্কার ধারণা দেবে।

মনে রাখবেন—
জ্ঞানই শক্তি।
আর সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ জীবন বাঁচাতে পারে।

লক্ষণ দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না।
আজই নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিন।

Free Home Sample Collection

For all online bookings

100% Accurate Results

We dont use any chinese reagents

No Compramise with quality

NGS test Platform is Illumina Nova seq

Get Tested at India No1 DNA Lab

Call us now to get free genetic counselling